ওলি-আওলিয়া কারা

আমাদের সমাজে বেশ পরিচিত দুটি শব্দ হলো ওলি-আওলিয়া। মুসলমান বাঙালি অথবা বাঙালি মুসলমান সমাজে সাধারণত মুসলমানদের একটি বিশেষ শ্রেণিকে ওলি-আওলিয়া মনে করা হয়। বলা হয় যে, বাংলাদেশ হাজার হাজার ওলি-আওলিয়ার দেশ। ওলি-আওলিয়া বলতে আসলে কী বুঝানো হয়? আসলেই কি ওলি-আওলিয়া বলতে মুসলমানদের বিশেষ কোন শ্রেণিকে বুঝানো হয়? ওলি-আওলিয়া শব্দ দুটি আরবি ভাষার ও কুরআন ও সুন্নাহতে ব্যবহৃত শব্দ। ওলি অর্থ বন্ধু আর আওলিয়া হলো ওলি শব্দের বহুবচন অর্থ বন্ধুগণ। এই বন্ধু দ্বারা আল্লাহর বন্ধু উদ্দেশ্য। এখন জানার বিষয় হলো আল্লাহর বন্ধু অর্থাৎ কারা ওলি-আওলিয়া? কুরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখ! আল্লাহর বন্ধুদের কোন ভয় নেই আর তারা দুঃখিতও হবে না। যারা ঈমান আনে আর তাকওয়া অবলম্বন করে।’-সূরা ইউনুস, আয়াত ৬২-৬৩।
এ আয়াত দুটি থেকে জানা গেলো ওলি-আওলিয়া হলো তারা-ই যারা ঈমান আনে ও তাকওয়া অবলম্বন করে অর্থাৎ দুইটি বৈশিষ্ট্য থাকলে একজন মানুষ আল্লাহর ওলি তথা বন্ধু হতে পারবে। একটি হলো ঈমান আর দ্বিতীয় হলো তাকওয়া। ঈমান হলো স্বীকৃতি ও বিশ্বাসের নাম অর্থাৎ শিরক, কুফর ও নিফাক মুক্ত তাওহিদ, মুহাম্মাদ স. ও সকল নবী-রাসূলকে স্বীকার করে নেওয়া ও তাঁদের ওপর প্রেরিত কিতাবের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। মালাইকা তথা ফেরেশতাগণের প্রতি ঈমান, আখেরাতের প্রতি ঈমান এবং তাকদির ও তাকদিরের ভালো ও মন্দের স্বীকৃতি ও বিশ্বাস অন্তরে, মুখে ও কর্মে। আর তাকওয়া অর্থ হলো আত্মরক্ষা করা অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশিত কাজ বাস্তবায়ন করা আর নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থেকে আল্লাহর সন্তষ্টি অর্জনের নিরন্তর সচেষ্ট থাকা। এবং এর মধ্য দিয়ে নিজেকে আল্লাহর অসন্তোষ ও জাহান্নাম থেকে রক্ষা করা।
তাহলে বুঝা গেলো মুমিন ও মুত্তাকি ব্যক্তি হলো ওলি তথা আল্লাহর বন্ধু। যার ঈমান ও তাকওয়া যত বেশি সে তত বড় ওলি। সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম প্রত্যেক ঈমানদার-মুসলমানই আল্লাহর ওলি। ওলি-আওলিয়া বলতে মুসলমানদের আলাদা কোন শ্রেণি নয়। বরং প্রত্যেক ঈমান আনা মুসলমানই আল্লাহর ওলি। হানাফি মাযহাবের অন্যতম সেরা ও প্রতিষ্ঠিত ফকিহ ইমাম আবু জাফর তাহাবি রাহিমাহুল্লাহ ইমাম আবু হানিফা (র), ইমাম আবু ইউসুফ (র), ইমাম মুহাম্মাদ (র) এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘সকল মুমিন করুণাময় আল্লাহর ওলি। তাঁদের মধ্য থেকে যে যত বেশি আল্লাহর অনুগত ও কুরআনের অনুসরণকারী তিনি তত বেশি আল্লাহর নিকট সম্মানিত।’-রাহে বেলায়াত, শাইখ ড. আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর (র), পৃষ্ঠা-৩৬।

লেখক- সৈয়দ আল জাবের

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *